Tuesday, February 10, 2026
Home BANGLA BLOG কসর নামাজের নিয়ম: অর্থ, রাকাত, কখন পড়তে হয় ও জরুরি মাসআলা

কসর নামাজের নিয়ম: অর্থ, রাকাত, কখন পড়তে হয় ও জরুরি মাসআলা

0
14
কসর নামাজের নিয়ম: অর্থ, রাকাত, কখন পড়তে হয় ও জরুরি মাসআলা
19 / 100 SEO Score

ইসলামে সফররত মুসলিমদের জন্য আল্লাহ তাআলা এক বিশেষ রহমত হিসেবে কসর নামাজ এর বিধান দিয়েছেন। ভ্রমণের কষ্ট ও ব্যস্ততার মাঝে যেন নামাজ আদায় সহজ হয়—সে উদ্দেশ্যেই ফরজ নামাজ সংক্ষিপ্ত করার এই ব্যবস্থা। কিন্তু অনেকেই কসর নামাজের সঠিক অর্থ, কত রাকাত পড়তে হয়, কখন কসর করা যাবে বা এটি বাধ্যতামূলক কি না—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না।
এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় জানবো কসর নামাজের অর্থ, মাগরিব ছাড়া কোন নামাজ কসর করা যায়, কতদিন পর্যন্ত কসর পড়া যাবে এবং গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ, ইনশাআল্লাহ।

সফরে ৪ রাকআত বিশিষ্ট ফরয নামাযকে ২ রাকআত কসর (সংক্ষেপ) করে পড়া সুন্নত ও আফযল। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলে

(وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوْا مِنَ الصَّلاَةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَّفْتِنَكُمُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا)

অর্থাৎ, যখন তোমরা ভূপৃষ্ঠে সফর কর, তখন তোমরা নামায সংক্ষেপ করলে তোমাদের কোন অপরাধ নেই; যদি তোমরা এই আশংকা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে বিব্রত করবে। (কুরআন মাজীদ ৪/১০১)

বাহ্যত: উক্ত আয়াত থেকে যদিও এই কথা বুঝা যায় যে, কেবল ভয়ের সময় নামায কসর করা বৈধ, তবুও ভয় ছাড়া নিরাপদ সময়েও কসর করা যায়। মহানবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-গণ ভয়-অভয় উভয় অবস্থাতেই কসর করেছেন বলে প্রমাণিত।

একদা হযরত য়্যা’লা বিন উমাইয়া (রাঃ) হযরত উমার (রাঃ)-কে বলেন, কি ব্যাপার যে, লোকেরা এখনো পর্যন্ত নামায কসর পড়েই যাচ্ছে, অথচ মহান আল্লাহ তো কেবল বলেছেন যে, “যখন তোমরা ভূপৃষ্ঠে সফর কর, তখন তোমরা নামায সংক্ষেপ করলে তোমাদের কোন অপরাধ নেই; যদি তোমরা এই আশংকা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে বিব্রত করবে।” আর বর্তমানে তো ভীতির সে অবস্থা অবশিষ্ট নেই?

হযরত উমার (রাঃ) উত্তরে বললেন, যে ব্যাপারে তুমি আশ্চর্যবোধ করছ, আমিও সেই ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করে নবী (ﷺ)-এর নিকট এ কথার উল্লেখ করলে তিনি বললেন, “এটা তোমাদেরকে দেওয়া আল্লাহর একটি সদকাহ্‌। সুতরাং তোমরা তাঁর সদকাহ্‌ গ্রহণ কর।” (আহমাদ, মুসনাদ, মুসলিম, সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১৩৩৫নং)

মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘মক্কাতে প্রথমে ২ রাকআত করে নামায ফরয করা হয়। অতঃপর নবী (ﷺ) যখন মদ্বীনায় হিজরত করে আসেন, তখন আরো ২ রাকআত করে নামায বৃদ্ধি করা হল। কেবল মাগরেবের নামায (৩ রাকআত) করা হল। কারণ, তা দিনের বিত্‌র। আর ফজরের নামাযও ২ রাকআত রাখা হল। কারণ, তার ক্বিরাআত লম্বা। কিন্তু নবী (ﷺ) যখন সফরে যেতেন, তখন তিনি ঐ প্রথমকার সংখ্যাই (মক্কায় ফরযকৃত ২ রাকআত নামাযই) পড়তেন।’ (আহমাদ, মুসনাদ, বায়হাকী, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ)

মহানবী (ﷺ) প্রত্যেক সফরেই কসর করে নামায পড়েছেন এবং কোন নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়াত দ্বারা এ কথা প্রমাণিত নেই যে, তিনি কোন সফরে নামায পূর্ণ করে পড়েছেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) বলেন, ‘আমি নবী (ﷺ), আবূ বাক্‌র, উমার ও উসমান (রাঃ)-এর সাথে সফরে থেকেছি। কিন্তু কখনো দেখি নি যে, তাঁরা ২ রাকআতের বেশী নামায পড়েছেন।’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১৩৩৮নং)

 কতদূর সফরে কসর বিধেয়

কুরআন মাজীদের উপর্যুক্ত আয়াতে বা কোন হাদীসে সেই সফরের কোন নির্দিষ্ট পরিমাপ বা দূরত্ব উল্লেখ হয়নি, যতটা দূরত্ব যাওয়ার পর নামায কসর করে পড়া বিধেয়। এই জন্য সঠিক এই যে, পরিভাষায় বা প্রচলিত অর্থে যাকে সফর বলা হয়, সেই সফরে নামায কসর করা চলবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/৪৯৭-৪৯৮)

সাহাবাদের মধ্যে এ ব্যাপারে বিভিন্ন মত পরিলক্ষিত হয়। হযরত ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমার (রাঃ) ৪৮ মাইল দূরে গিয়ে কসর করতেন এবং রোযা রাখতেন না। (বুখারী)

প্রকাশ থাকে যে, এই সফর পায়ে হেঁটে হোক অথবা উটের পিঠে, সাইকেলে হোক বা বাসে-ট্রেনে, পানি-জাহাজে হোক অথবা এরোপ্লেনে, কষ্টের হোক অথবা আরামের, বৈধ কোন কাজের জন্য হলে তাতে কসর বিধেয়। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২০/১৫৭)

দূরবর্তী সফর থেকে যদি একদিনের ভিতরেই ফিরে আসে অথবা নিকটবর্তী সফরে ২/৩ দিন অবস্থান করে তবুও তাতে কসর-জমা চলবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/৪৯৯)

কোত্থেকে কসর শুরু হবে?

মহানবী (ﷺ) শহর বা জনপদ ছেড়ে বের হয়ে গেলেই কসর শুরু করতেন। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, ‘আমি নবী (ﷺ)-এর সাথে (মক্কা যাওয়ার পথে) মদ্বীনায় যোহরের ৪ রাকআত এবং (মদ্বীনা থেকে ৬ মাইল দূরে) যুল-হুলাইফায় গিয়ে আসরের ২ রাকআত পড়তাম।’ (বুখারী ১০৮৯নং, মুসলিম, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান)

বলা বাহুল্য, সফর করতে শহর বা গ্রাম ত্যাগ করার পূর্ব থেকেই নামায কসর বা জমা করা চলবে না।

নামাযের সময় আসার পরেও সফর করলে পথে কসর করা বৈধ। অনুরুপ সফরে নামাযের সময় হওয়ার পরেও বাসায় ফিরে এলে পূর্ণ নামায পড়তে হবে। (লিকাউবাবিল মাফতূহ্‌, ইবনে উষাইমীন ৭৯পৃ:, আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/৫২৩)

সফরে বের হয়ে শহর ছেড়ে (শহরের বাইরে) বিমান-বন্দর, স্টেশন বা বাস-স্ট্যান্ডে কসর চলবে। সেখানে কসর করে নামায পড়ার পর যদি কোন কারণবশত: প্লেন বা গাড়ি না আসার ফলে বাড়ি ফিরতে হয়, তবুও ঐ কসর করা নামায আর ফিরিয়ে পড়তে হবে না। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/৫১৪)

সফরে বের হয়ে প্লেন বা গাড়ি যদিও মুসাফিরের গ্রাম বা শহরের উপর বা ভিতর দিয়ে যায়, তাহলেও তার ঐ বিমান-বন্দরে বা স্টেশনে বা বাস-স্ট্যান্ডে কসর করা চলবে। (ঐ ৪/৫৬৯)

কসরের সময়য়সীমা

সফরে গিয়ে নির্দিষ্ট দিন থাকার সংকল্প না হলে, বরং কাজ হাসিল হলেই ফিরে আসার নিয়ত হলে অথবা পথে কোন বাধা পড়লে যতদিন ঐ কাজ না হবে অথবা বাধা দূর না হবে ততদিন সফরে কসর করা চলবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৪০৬-৪০৭)

মহানবী (ﷺ) এক সফরে ১৯ দিন ছিলেন এবং তাতে নামায কসর করেছেন। (বুখারী ১০৮০নং) হযরত আনাস (রাঃ) শাম দেশে ২ বছর ছিলেন এবং ২ বছরই নামায কসর করে পড়েছেন। (মালেক, মুঅত্তা ৩/৪৮৮, ফিকহুস সুন্নাহ্‌ ১/২৮৬)

হযরত আব্দুল্লাহ বিন ইবনে উমার (রাঃ) পথে বরফ থাকার ফলে আযারবাইজানে ৬ মাস আটক ছিলেন এবং তাতে কসর করে নামায পড়েছিলেন। (আব্দুর রাযযাক, মুসান্নাফ ২/৪৩৩৯, বায়হাকী ৩/১৫২)

কিছু সাহাবা রামাহুরমুযে ৭ মাস অবস্থান কালে কসর করে নামায পড়েছিলেন। (বায়হাকী ৫২৬৭নং) পক্ষান্তরে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে; ব্যবসা, চাকুরী, অধ্যয়ন প্রভৃতির জন্য বিদেশে থাকতে হলে তখন আর কসর চলবে না।

বাকী থাকল এত দিন সফরে থাকার নিয়ত করলে কসর চলবে এবং এত দিন করলে চলবে না, তো সে কথার উপযুক্ত দলীল নেই। ৪ কিংবা তার থেকে বেশী দিনের অবস্থান নিয়তে থাকলেও যতদিন তার কাজ শেষ না হয়েছে ততদিন মুসাফির মুসাফিরই; যতক্ষণ না সে স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত করেছে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/৫৩২-৫৩৯)

প্রকাশ থাকে যে, যারা ভাড়া গাড়ি চালায়, প্রত্যহ্‌ বাস, ট্রেন বা প্লেন চালায় তারাও মুসাফির। তাদের জন্যও নামায কসর করা বিধেয়। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২২/১০৩

 সফরে সুন্নত ও নফল নামায

মহানবী (ﷺ) সফরে সাধারণত: ফরয নামাযের আগে বা পরে সুন্নত নামায পড়তেন না। তবে বিত্‌র ও ফজরের সুন্নত তিনি সফরেও নিয়মিত পড়তেন। যেমন এর পূর্বেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।

বলা বাহুল্য, সফরে (বিত্‌র ও ফজরের আগে ২ রাকআত ছাড়া) সুন্নত (মুআক্কাদাহ) না পড়াই সুন্নত। হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) এক সফরে লোকেদেরকে ফরয নামাযের পর সুন্নত পড়তে দেখে বললেন, ‘যদি আমাকে সুন্নতই পড়তে হত, তাহলে ফরয নামায পুরা করেই পড়তাম। আমি নবী (ﷺ)-এর সাথে সফরে থেকেছি। আমি তাঁকে সুন্নত পড়তে দেখিনি।’ অতঃপর তিনি বললেন,

(لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ)

অর্থাৎ, নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। (কুরআন মাজীদ ৩৩/২১) (বুখারী ১১০১নং, মুসলিম, সহীহ)

আমি নবী (ﷺ)-এর সাথে সফরে থেকেছি। তিনি ২ রাকআতের বেশী নামায পড়তেন না। অনুরুপ আবূ বাক্‌র, উমার ও উসমান (রাঃ)-ও করতেন।’ (বুখারী ১১০২নং, মুসলিম, মিশকাত ১৩৩৮নং)

তবে সফরে সুন্নাতে মুআক্কাদাহ পড়া যাবে না এমন কথা নয়। যেহেতু মহানবী (ﷺ) কখনো কখনো কিছু কিছু সুন্নাতে মুআক্কাদাহ পড়তেন। (মিশকাত আলবানীর টীকা ১/৪২৩)অবশ্য সাধারণ নফল, তাহাজ্জুদ, চাশত, তাহিয়্যাতুল মাসজিদ প্রভৃতি নামায সফরে পড়া চলে। যেমন ফরয নামাযের আগে-পরেও নফলের নিয়তে নামায পড়া দূষণীয় নয়।

মক্কা বিজয়ের দিন উম্মেহানীর ঘরে তিনি চাশতের নামায পড়েছেন। (বুখারী) এ ছাড়া তিনি সফরে উটের পিঠে নফল ও বিত্‌র নামায পড়তেন। (বুখারী, মুসলিম, আবূদাঊদ, সুনান, নাসাঈ, সুনান)

নামায জমা করে পড়ার বিধান

কসর সালাতের নিয়ম | সফরের নামায | মুসাফিরের নামাজ | ড. আবু বকর যাকারিয়া



মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি বড় দয়াবান, বড় অনুগ্রহশীল। তিনি বান্দার কষ্ট চান না। তাই অনুগ্রহ করেই বিধান দিয়েছেন দুই সময়ের নামাযকে প্রয়োজনে এক সময়ে একত্রিত করে পড়ার। অনুমতি দিয়েছেন আগের নামাযকে পরের সাথে (বিলম্ব করে) অথবা পরের নামাযকে আগের সাথে (ত্বরান্বিত করে) পড়ার।

অবশ্য এ কেবল সীমাবদ্ধ নামাযের মাঝেই সম্ভব। যেমন, যোহ্‌র ও আসর এক সাথে এবং মাগরেব ও এশা এক সাথে দুটির মধ্যে একটির সময়ে জমা করে পড়া যাবে। পক্ষান্তরে ফজরের নামাযকে আগে-পরের কোন নামাযের সাথে জমা করে পড়া যাবে না। যেমন পড়া যাবে না আসর ও মাগরেবের নামাযকে এক সাথে জমা করে। অনুরুপ জুমআর নামায যোহ্‌র থেকে পৃথক। অতএব জুমআর সাথে আসরের নামাযকে জমা করে পড়া যাবে না। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/৫৭২-৫৭৩)

কোন্‌ কোন্‌ অবস্থায় জমা করা যায়?

যথা সময়ে নামায পড়াই প্রত্যেক মুসলিম নরনারীর জন্য ফরয। কিন্তু দলীলের ভিত্তিতেই নিম্নোক্ত সময় ও অবস্থায় এক সময়ের নামাযকে অন্য সময়ের নামাযের সাথে জমা করে পড়া বৈধ :-

আরাফাত ও মুযদালিফায় :

বিদায়ী হ্‌জ্জে মহানবী (ﷺ) আরাফাতে যোহ্‌র ও আসরের নামাযকে যোহরের সময় এবং মুযদালিফায় মাগরেব ও এশার নামাযকে এশার সময় জমা করে পড়েছিলেন।

সফরে মুসাফির অবস্থায় :

সফরে পথে অথবা কোন অবস্থান ক্ষেত্রে বা বাসায় জমা (ও কসর) করে নামায পড়া যায়। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে নবী (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে বর্ণনা দেব না?’ লোকেরা বলল, ‘অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘সফর করার সময় অবস্থান ক্ষেত্রে থাকতে থাকতেই যদি সূর্য ঢলে যেত, তাহলে সওয়ার হওয়ার আগেই যোহ্‌র ও আসরকে জমা করে পড়ে নিতেন। আর সূর্য না ঢললে তিনি বের হয়ে যেতেন। অতঃপর আসরের সময় হলে সওয়ারী থেকে নেমে যোহ্‌র ও আসরকে এক সঙ্গে জমা করে পড়ে নিতেন। অনুরুপ যদি অবস্থান ক্ষেত্রে থাকতে থাকতেই সূর্য ডুবে যেত, তাহলে মাগরেব ও এশার নামাযকে এক সঙ্গে জমা করে নিতেন। আর সূর্য না ডুবলে তিনি বের হয়ে যেতেন। অতঃপর এশার সময় হলে তিনি সওয়ারী থেকে নেমে মাগরেব ও এশার নামাযকে এক সঙ্গে জমা করে পড়ে নিতেন।’ (আহমাদ, মুসনাদ, শাফেয়ী, দ্র: বুখারী ১১১১-১১১২নং)

হযরত মুআয (রাঃ) বলেন, তবুক অভিযানে গিয়ে আল্লাহর রসূল (ﷺ) একদা দেরী করে নামায পড়লেন। তিনি বাইরে এসে যোহ্‌র ও আসরকে এক সাথে জমা করে পড়লেন। তারপর তিনি ভিতরে চলে গেলেন। অতঃপর বাইরে এসে তিনি মাগরেব ও এশাকে এক সাথে জমা করে পড়লেন। (মুসলিম, মালেক, মুঅত্তা)

দুই নামাযকে একত্রে জমা করে পড়ার সময় সুন্নত হল নামাযের পূর্বে একটি আযান হবে এবং প্রত্যেক নামায শুরু করার আগে ইকামত হবে। আর উভয় নামাযের মাঝে কোন সুন্নত পড়া যাবে না। মহানবী (ﷺ) আরাফাত ও মুযদালিফায় অনুরুপই করেছিলেন। (আহমাদ, মুসনাদ, বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, সুনান)

দুই নামায জমা করার সময় উভয়ের মাঝে সামান্য ক্ষণ দেরী হয়ে যাওয়া দোষাবহ্‌ নয়। কারণ, মুযদালিফায় পৌঁছে মহানবী (ﷺ) মাগরেবের নামায পড়েন। অতঃপর প্রত্যেকে নিজ নিজ উট নিজ নিজ অবতরণ স্থলে বসিয়ে দিল। তারপর এশার নামায পড়লেন এবং মাঝে কোন নামায পড়েননি। (বুখারী ১৬৭২, মুসলিম, সহীহ)

সারসংক্ষে কিভাবে কসর নামায আদায় করতে হবে

১. কসর নামাযের সংজ্ঞা ও বিধান: সফরের সময় ৪ রাকআত বিশিষ্ট ফরয নামাযকে (যোহ্‌র, আসর ও এশা) ২ রাকআত করে সংক্ষেপে পড়াকে কসর বলা হয় [১]। এটি করা সুন্নত এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার বা সদকাহ্‌ [১, ২]।

২. কোন নামাযগুলো কসর করতে হয়:

• শুধুমাত্র ৪ রাকআতের ফরয নামাযগুলো (যোহ্‌র, আসর এবং এশা) ২ রাকআত পড়তে হয় [১, ৩]।

৩• মাগরেবের ৩ রাকআত এবং ফজরের ২ রাকআত নামাযে কোনো কসর নেই, এগুলো পূর্ণই পড়তে হয়।

৪. কসর কখন ও কোথা থেকে শুরু করতে হয়:

• নিজ শহর বা জনপদ ছেড়ে বের হওয়ার পর থেকেই কসর শুরু করতে হয় [৫]।

• শহর ত্যাগের আগে বাসা থেকে কসর বা জমা করা বৈধ নয় [৫]। তবে শহরের বাইরে বিমান-বন্দর বা স্টেশনে পৌঁছালে কসর করা যাবে [৬]।

৪. সফরের দূরত্ব ও সময়সীমা:

• প্রচলিত অর্থে যাকে সফর বলা হয়, তাতেই কসর করা চলে।

 সাধারণত অনকে আলেমগন ৪৮ মাইল বা তার বেশি দূরত্বকে সফর হিসেবে গণ্য করেন

• সফরে গিয়ে নির্দিষ্ট কতদিন থাকা হবে তার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ত না করছেন অথবা আপনার কাজ শেষ না হচ্ছে, ততক্ষণ কসর পড়তে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো বাধা বা কাজের কারণে সাহাবীগণ মাসব্যাপী বা বছরের অধিক সময়ও কসর পড়েছেন 

৫. সুন্নাত ও নফল নামাযের বিধান:

• সফরে সাধারণত ফরযের আগে-পরের সুন্নাত (মুআক্কাদাহ) না পড়াই সুন্নাত

• তবে বিত্‌র নামায নিয়মিত পড়তে হয়, কারণ নবী (ﷺ) এগুলো সফরেও ছাড়তেন না

• সাধারণ নফল, তাহাজ্জুদ বা চাশতের নামায সফরে পড়া জায়েয

৬. নামায জমা বা একত্রে পড়া: সফরে যোহ্‌র ও আসরকে যোহ্‌র বা আসরের যেকোনো এক সময়ে এবং মাগরেব ও এশাকে মাগরেব বা এশার যেকোনো এক সময়ে একত্রে (জমা করে) পড়া বৈধ ।

সংক্ষেপে, আপনি যখন আপনার এলাকা ছেড়ে সফরের উদ্দেশ্যে বের হবেন, তখন ৪ রাকআতের ফরয নামাযগুলো ২ রাকআত করে পড়বেন এবং ফজরের সুন্নাত ও বিত্‌র ছাড়া অন্যান্য নিয়মিত সুন্নাত নামাযগুলো না পড়াই উত্তম