ফিতরা কী দিয়ে আদায় করতে হবে? টাকা নাকি খাদ্য? সদকাতুল ফিতর ২০২৫

0
11
ফিতরা কী দিয়ে আদায় করতে হবে? টাকা নাকি খাদ্য? সদকাতুল ফিতর ২০২৫
ফিতরা কী দিয়ে আদায় করতে হবে? টাকা নাকি খাদ্য? সদকাতুল ফিতর ২০২৫
70 / 100

সদকাতুল ফিতর কি?

সদকাতুল ফিতর, ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক দান, যা রমজান মাসের শেষে মুসলমানদের উপর ওয়াজিব (ফরজ) হয়। এটি সাধারণত রমজানের শেষ দিনে, ঈদুল ফিতরের আগে দেওয়া হয়। সদকাতুল ফিতরের উদ্দেশ্য হলো গরীবদের সাহায্য করা, যাতে তারা ঈদ উৎসবে অংশ নিতে পারে এবং সারা বছরের জন্য তাঁদের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়।

এই দানটি ব্যক্তি বা পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়, যাতে সমাজের হতদরিদ্র মানুষও ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারে। সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ সাধারণত খাদ্যদ্রব্য বা টাকার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, এবং এটি সাধারণত একজন ব্যক্তি বা পরিবারের পক্ষে প্রদান করা হয়।

এটি মুসলমানদের জন্য একটি মহান কর্ম, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সাহায্য করে এবং সমাজে সাম্যের প্রচার করে।সদকাতুল ফিতর বা যাকাতুল ফিতর হলো এক প্রকার বাধ্যতামূলক দান, যা মুসলমানরা রমজানের শেষে ঈদের নামাজের আগে প্রদান করে। এটি রোজার পরিশুদ্ধি এবং দরিদ্রদের ঈদের আনন্দে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য দেওয়া হয়।

সদকাতুল ফিতরের গুরুত্ব:

গরীবদের সাহায্য করা

ঈদের আনন্দ সবাইকে ভাগাভাগি করা

আত্মবিশ্বাস এবং সহানুভূতির অনুভূতি সৃষ্টি করা

ঈদের দিন পর্যন্ত সদকাতুল ফিতর দেয়া সুন্নাত। তাই মুসলমানদের উচিত এ দানটি নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করা।ফিতরা কীভাবে আদায় করতে হয়?

ফিতরা সাধারণত নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী (যেমন গম, খেজুর, যব বা চাল) প্রদান করে আদায় করা হয়। তবে, কিছু আলেম অর্থমূল্যে প্রদানকেও অনুমোদন করেন, যাতে গরিবরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করতে পারে।

ফিতরা কি দিয়ে আদায় করতে হবে? টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে কি? টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় হবে কি?

সদকাতুল ফিতর, বা ফিতরা, একটি ফরজ দান যা রমজান মাসের শেষে ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে মুসলমানদের দিতে হয়। এটি মানুষের রোজা ভঙ্গ হওয়া থেকে পরিশুদ্ধি অর্জনের জন্য এবং গরীবদের ঈদ আনন্দে শামিল হওয়ার জন্য প্রদান করা হয়। সাধারণত এটি খাদ্যদ্রব্য হিসেবে দেওয়া হয়, যেমন খেজুর, গম, যব, বা কিসমিস, যাতে গরীবরা ঈদের দিন খাবারের অভাবে না পড়ে।

সাদাকাতুল ফিতর দেশের প্রধান খাদ্য থেকে হওয়াই বাঞ্ছনীয়; যদিও হাদীসে সে খাদ্যের উল্লেখ নেই, যেমন চাল। পক্ষান্তরে যে সব খাদ্যের কথা হাদীসে স্পষ্ট উল্লেখ এসেছে; যেমন খেজুর, যব, কিসমিস ও পনীর – এ সব খাদ্য আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর যুগের মত দেশের প্রধান খাদ্য না হলে তা থেকে ফিতরা আদায় যথেষ্ট হবে না। হাদীসে ঐ চারটি খাদ্যের উল্লেখ আসার কারণ হল, সে যুগে মদ্বীনায় সেগুলি প্রধান খাদ্যসামগ্রীরূপে ব্যবহার হত। সুতরাং তার উল্লেখ উদাহরণস্বরূপ করা হয়েছে; নির্ধারণস্বরূপ নয়। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর যামানায় ঈদের দিন এক সা’ খাদ্য আদায় দিতাম। আর তখন আমাদের খাদ্য ছিল, যব, কিসমিস, পনীর ও খেজুর।’[(বুখারী ১৫১০নং)]

এখানে ‘খাদ্য’ বলে মৌলিক উপাদানের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। অর্থাৎ, ফিতরা ছিল মানুষের খাদ্য ও আহার; যা খেয়ে লোকেরা জীবন ধারণ করত। এ কথার সমর্থন করে ইবনে আববাস (রাঃ)-এর হাদীস; তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) রোযাদারের অসারতা ও যৌনাচারের পঙ্কিলতা থেকে পবিত্রতা এবং মিসকীনদের আহার স্বরূপ (সাদাকাতুল ফিতর) ফরয করেছেন —।’[(সহীহ আবূ দাঊদ ১৪২০, ইবনে মাজাহ ১৮২৭, দারাকুত্বনী, সুনান, হাকেম, মুস্তাদ্রাক ১/৪০৯, বাইহাকী ৪/১৬৩)]

সুতরাং যে দেশের প্রধান খাদ্য কোন শস্য অথবা ফল না হয়; বরং মাংস হয়, যেমন যারা পৃথিবীর উত্তর মেরুতে বসবাস করে তাদের প্রধান খাদ্য হল মাংস, তারা যদি ফিতরায় মাংস দান করে, তাহলে সঠিক মত এই যে, নিঃসন্দেহে তা যথেষ্ট হবে।

সারকথা, দেশের প্রধান খাদ্য শস্য, ফল বা মাংস যাই হোক না কেন, ফিতরায় তা দান করলে ফিতরা আদায় হয়ে যাবে। তাতে সে খাদ্যের কথা হাদীসে স্পষ্ট উল্লেখ থাক অথবা না থাক।[ (আশ্শারহুল মুমতে’ ৬/১৮০-১৮৩)]

উক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে, ফিতরায় টাকা-পয়সা, কাঁথা-বালিশ-চাটাই, লেবাস-পোশাক, পশুখাদ্য অথবা কোন আসবাব-পত্র দান করলে তা যথেষ্ট নয়। কারণ, তা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ-বিরোধী। আর তিনি বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করে, যাতে আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।’’[(আহমাদ, মুসনাদ ২/১৪৬, বুখারী তা’লীক ১৫৩৯পৃঃ, মুসলিম ১৭১৮নং, আবূ দাঊদ, ইবনে মাজাহ)] ‘‘যে ব্যক্তি আমাদের এ ব্যাপারে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’’[[5] (আহমাদ, মুসনাদ ৬/২৭০, বুখারী ২৬৯৭, মুসলিম ১৭১৮, ইবনে মাজাহ)]

টাকা-পয়সা হিসাবে (রুপার) দিরহাম এবং (সোনার) দ্বীনার মুদ্রা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর যামানায় মজুদ ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি ফিতরার যাকাতে এক সা’ খাদ্য দান করতেই আদেশ করলেন এবং তার মূল্য দান করার এখতিয়ার ঘোষণা করলেন না। সুতরাং ফিতরায় খাদ্যের দাম আদায় দেওয়া সাহাবা (রাযি.)-গণের বিরুদ্ধাচরণ। যেহেতু তাঁরা ফিতরার সদকায় এক সা’ খাদ্যই দান করতেন। পরন্তু আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘তোমরা আমার সুন্নাহ (তরীকা) ও আমার পরবর্তী সুপথপ্রাপ্ত খলীফাদের সুন্নাহ অবলম্বন কর। তা খুব সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর। আর অভিনব কর্মাবলী থেকে সাবধান থেকো।—’’[(আহমাদ, মুসনাদ ৪/১২৬, ১২৭, আবূ দাঊদ ৪৬০৭, তিরমিযী ২৬৭৬, ইবনে মাজাহ ৪৩, ৪৪, ইবনে হিববান, সহীহ, হাকেম, মুস্তাদ্রাক ১/৯৫ প্রমুখ, ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ২৪৫৫নং)]

সিদ্ধান্ত:  টাকা-পয়সা হিসাবে (রুপার) দিরহাম এবং (সোনার) দ্বীনার মুদ্রা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর যামানায় মজুদ ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি ফিতরার যাকাতে এক সা’ খাদ্য দান করতেই আদেশ করলেন এবং তার মূল্য দান করার এখতিয়ার ঘোষণা করলেন না। সুতরাং ফিতরায় খাদ্যের দাম আদায় দেওয়া সাহাবা (রাযি.)-গণের বিরুদ্ধাচরণ। বুঝা গেল যে, গ্রাম-শহর সকল স্থানে প্রধান খাদ্য চাল ফিতরা দেওয়ার পরিবর্তে তার নির্দিষ্ট মূল্য আদায় করা যথেষ্ট নয়। চাকুরী-জীবী হলেও তাকে চাল ক্রয় করেই ফিতরা দিতে হবে। অবশ্য তার কোন এমন প্রতিনিধি অথবা কোন এমন সংস্থাকে টাকা দেওয়া চলবে, যে খাদ্য ক্রয় করে ঈদের আগে গরীবদের হাতে পৌঁছে দেবে।

আর দানের ক্ষেত্রে মধ্যম ধরনের চাল এখতিয়ার করা বাঞ্ছনীয়। নচেৎ ইচ্ছাকৃত নিম্নমানের চাল দান করলে মহান আল্লাহর দরবারে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। মহান আল্লাহ বলেন,

(وَلاَ تَيَمَّمُوا الْخَبِيْثَ مِنْهُ تُنْفِقُوْنَ وَلَسْتُمْ بِآخِذِيْهِ إِلاَّ أَنْ تُغْمِضُوْا فِيْهِ)

অর্থাৎ, (হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের উপার্জিত এবং ভূমি হতে উৎপাদনকৃত বস্ত্তর মধ্যে যা উৎকৃষ্ট তা দান কর।) আর তা হতে মন্দ জিনিস দান করো না; অথচ চোখ বন্ধ করে ছাড়া তোমরা নিজে তা গ্রহণ করবে না । (কুরআনুল কারীম ২/২৬৭)

সদকাতুল ফিতর আদায় করা কি ওয়াজিব?

হ্যাঁ, এটি প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক ( ফরজ দান /ওয়াজিব), যারা মৌলিক চাহিদার বাইরে অতিরিক্ত সম্পদের মালিক। শিশুদের ফিতরা তাদের অভিভাবকদের মাধ্যমে প্রদান করতে হয়।

প্রথাগতভাবে ফিতরা খাদ্যসামগ্রী দিয়ে আদায় করা হয়। তবে কিছু আলেম নগদ অর্থ প্রদানের অনুমতি দিয়েছেন, যা দরিদ্রদের প্রয়োজন অনুসারে কাজে লাগতে পারে।

কিন্তু এটি অবশ্যই একটি হাদিস বিরোধী কাজ যে যাই বলুক সব সময় আমাদের কুরআন এবং হাদিসকে অনুসরণ করা উচিত যেহেতু এটি কোরআন হাদিস বিরোধী কাজ সে যত বড়ই আলেম হোক না কেন তার কথা অবশ্যই বঞ্চনীয় পালনযোগ্য নয় কেননা খাদ্যদ্রব্য দিয়ে অবশ্যই আদায় করতে হবে

সদকাতুল ফিতর আদায়ের নিয়ম

  • ঈদের নামাজের আগে ফিতরা প্রদান করা আবশ্যক।
  • এটি দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের দেওয়া উচিত।
  • অবশ্যই কেউ যদি রাসূল সাঃ এর অনুসরণ করতে চায় তাকে অবশ্যই খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে

📌 সাদাকাতুল ফিতর পরিমাপ এবং হিসাব করার নিয়মসদকায় এক সা’ খাদ্য? সমান সমান কি পরিমান

‘সা’ একটি ঐতিহ্যবাহী আরবি পরিমাপ যা সাদাকাতুল ফিতর হিসাব করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত সেই পরিমাণ খাবার যা দুটি হাত একত্র করে ধারণ করা যায়। সাধারণত, একজন মধ্যম আকারের মানুষের হাতের চারটি আজলা এক ‘সা’ পরিমাণ হয়।

আরবিতে, صاع (‘সা’) শব্দটি একটি নির্দিষ্ট পরিমাপের পাত্রকে নির্দেশ করে, যার মাধ্যমে দানা জাতীয় শস্য মাপা হয়। বিভিন্ন শস্যের জন্য ‘সা’ পরিমাপের ওজন আলাদা হতে পারে, কারণ শস্যের ওজন ভিন্ন হতে পারে। যেমন, এক ‘সা’ চাল ও এক ‘সা’ মাকরোনা একই পরিমাণ ওজনের হবে না, কারণ চাল মাকরোনার তুলনায় হালকা হয়। তাই এক ধরনের শস্যের এক ‘সা’ ও অন্য শস্যের এক ‘সা’-এর মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।

ভিন্ন শস্যের ‘সা’-এর ওজনের পার্থক্য

একটি ‘সা’ চালের ওজন এবং একটি ‘সা’ মাকরোনার ওজন এক নয়। চাল মাকরোনার তুলনায় হালকা হওয়ায়, এক ‘সা’ চালের পরিমাণ মাকরোনার এক ‘সা’ থেকে কম হতে পারে। এই কারণে, যদি ‘সা’ পরিমাপটি ওজন দ্বারা নির্ধারণ করা হয়, তবে বিভিন্ন শস্যের মধ্যে ‘সা’ পরিমাপের ওজন ভিন্ন হতে পারে।

কত কেজি শস্যে এক ‘সা’ পূর্ণ হয়?

নানা ধরনের শস্যের জন্য এক ‘সা’ এর ওজন নিম্নরূপ হতে পারে:

  • চাল: এক ‘সা’ চালের ওজন ২.৩ কেজি
  • খেজুর: এক ‘সা’ খেজুরের ওজন ৩ কেজি
  • বার্লি: এক ‘সা’ বার্লির ওজন ২ কেজি
  • কিশমিশ: এক ‘সা’ কিশমিশের ওজন ১.৬ কেজি
  • ফাসুলিয়া (শিম): এক ‘সা’ ফাসুলিয়ার ওজন ২.৬৫ কেজি
  • মসুর ডাল: এক ‘সা’ মসুর ডালের ওজন ৩ কেজি
  • হলুদ ডাল: এক ‘সা’ হলুদ ডালের ওজন ২ কেজি

আপনি যদি অন্য শস্য দিয়ে যাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করতে চান, যেমন মাকরোনা, গম, মটরশুঁটি বা ভুট্টা, তবে আপনাকে ঐ শস্যের ‘সা’ পরিমাপ জানার জন্য চারটি আজলা শস্য একত্র করে ওজন করতে হবে এবং তারপরে সঠিক পরিমাণ বের করতে হবে। এটি আপনাকে সঠিকভাবে সাদাকাতুল ফিতর হিসাব করতে সাহায্য করবে।

যাকাতুল ফিতর দিতে কতটা পরিমাণ খাবার বা টাকা দরকার?

যাকাতুল ফিতরের জন্য পরিমাণটা প্রায় ২.৫ কেজি থেকে ৩ কেজি শস্য বা তার সমতুল্য অর্থ হওয়া উচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য এক ‘সা’ শস্য বা খাবার নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি নিজে এবং পরিবারের সকল সদস্যের পক্ষ থেকে এক-এক ‘সা’ শস্য প্রদান করবে, যা সহজ পদ্ধতি।

কিভাবে নিজের পরিবারে যাকাতুল ফিতর হিসাব করবেন?

আপনি যদি নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য যাকাতুল ফিতর হিসাব করতে চান, তবে আপনি মোট সদস্য সংখ্যা দ্বারা পরিমাণ গুণ করবেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি নিজের, স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়ের জন্য যাকাতুল ফিতর বের করেন, তাহলে হিসাব হবে:

  • প্রতিটি সদস্যের জন্য এক ‘সা’
  • ১ ‘সা’ চালের পরিমাণ ৩ কেজি হলে, ৪ সদস্যের জন্য হিসাব হবে:
    ৩ কেজি × ৪ = ১২ কেজি চাল
  • সিদ্ধান্ত: ৩ কেজি

সর্বদা কিছুটা বেশি পরিমাণ দেওয়া ভালো, যাতে আপনি সঠিকভাবে আপনার কর্তব্য পালন করতে পারেন।


✅ এক সা’ সমান সমান কি পরিমাণ আসুন বিষয়টি পরিষ্কার হতে আমরা ইসলামিক স্কলারদের থেকে বুঝে নিন, ফিতরা কী দিয়ে আদায় করতে হবে? টাকা নাকি খাদ্য?

1 ফিতরা কি অর্ধ সা নাকি এক সা? | এক সা সমান কত কেজি? | ড. জাকির নায়েক

ফিতরা কি অর্ধ সা নাকি এক সা? | এক সা সমান কত কেজি? | ড. জাকির নায়েক | #Resalah.

প্রশ্নোত্তর

সদকাতুল ফিতর কি?

সদকাতুল ফিতর হলো এক প্রকার বাধ্যতামূলক দান, যা ঈদের আগে দরিদ্রদের জন্য প্রদান করা হয়।

ফিতরা কি দিয়ে আদায় করতে হবে? টাকা নাকি খাদ্য? টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে কি?

টাকা-পয়সা হিসাবে (রুপার) দিরহাম এবং (সোনার) দ্বীনার মুদ্রা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর যামানায় মজুদ ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি ফিতরার যাকাতে এক সা’ খাদ্য দান করতেই আদেশ করলেন এবং তার মূল্য দান করার এখতিয়ার ঘোষণা করলেন না। সুতরাং ফিতরায় খাদ্যের দাম আদায় দেওয়া সাহাবা (রাযি.)-গণের বিরুদ্ধাচরণ। যেহেতু তাঁরা ফিতরার সদকায় এক সা’ খাদ্যই দান করতেন। পরন্তু আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘তোমরা আমার সুন্নাহ (তরীকা) ও আমার পরবর্তী সুপথপ্রাপ্ত খলীফাদের সুন্নাহ অবলম্বন কর। তা খুব সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর। আর অভিনব কর্মাবলী থেকে সাবধান থেকো।—’’[(আহমাদ, মুসনাদ ৪/১২৬, ১২৭, আবূ দাঊদ ৪৬০৭, তিরমিযী ২৬৭৬, ইবনে মাজাহ ৪৩, ৪৪, ইবনে হিববান, সহীহ, হাকেম, মুস্তাদ্রাক ১/৯৫ প্রমুখ, ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ২৪৫৫নং)]

২০২৫ সালের ফিতরা কত টাকা?

টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা এটা রাসূল সাল্লাহ সালামের পরিপন্থী এবং মানুষের বানানো একটি কাজ যা কোনদিন আদায় হবে না কেননা এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় হবে না

[টাকা-পয়সা হিসাবে (রুপার) দিরহাম এবং (সোনার) দ্বীনার মুদ্রা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর যামানায় মজুদ ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি ফিতরার যাকাতে এক সা’ খাদ্য দান করতেই আদেশ করলেন এবং তার মূল্য দান করার এখতিয়ার ঘোষণা করলেন না। সুতরাং ফিতরায় খাদ্যের দাম আদায় দেওয়া সাহাবা (রাযি.)-গণের বিরুদ্ধাচরণ। যেহেতু তাঁরা ফিতরার সদকায় এক সা’ খাদ্যই দান করতেন। পরন্তু আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘তোমরা আমার সুন্নাহ (তরীকা) ও আমার পরবর্তী সুপথপ্রাপ্ত খলীফাদের সুন্নাহ অবলম্বন কর। তা খুব সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর। আর অভিনব কর্মাবলী থেকে সাবধান থেকো।—’’[(আহমাদ, মুসনাদ ৪/১২৬, ১২৭, আবূ দাঊদ ৪৬০৭, তিরমিযী ২৬৭৬, ইবনে মাজাহ ৪৩, ৪৪, ইবনে হিববান, সহীহ, হাকেম, মুস্তাদ্রাক ১/৯৫ প্রমুখ, ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ২৪৫৫নং)]

সদকাতুল ফিতর কি ওয়াজিব?

হ্যাঁ, এটি মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক।

উপসংহার

সদকাতুল ফিতর একটি গুরুত্বপূর্ণ দান, যা দরিদ্রদের ঈদের আনন্দে শরিক করতে সহায়ক। খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা সুন্নাহ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নগদ অর্থ প্রদান করাও অনেক আলেম অনুমোদন করেছেন। তাই, ফিতরা প্রদান করার সময় দরিদ্রদের প্রকৃত প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।

1 Read more: ঈদের নামাজ কত তাকবীর? এবং ঈদের নামাজ আদায়ের নিয়মাবলী জানুন দলিল ভিত্তিক

2 Read more: ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে 2025

ট্যাগ: #সদকাতুলফিতর #ফিতরাপ্রদান #যাকাতুলফিতর #ঈদদান #ফিতরানিয়ম #ইসলামিকদান #ফিতরা২০২৫

💞 If you have Any Questions Please Inform me ☎️

Our Telegram Channel = Join Now ✅ Our Telegram Group = Join Now ✅ Our Facebook Page = Join Now  ✅ Facebook Profile = tawfik5x  💞 Youtube Channel 1 = Amanulla design BD Youtube Channel 2 = Custom Episode Official

Please Don’t Forget to appreciate it

Thank you very much

Table of Contents