শিয়ারা কি মুসলিম ? শিয়া এবং মুসলিমদের মধ্যে পার্থক্য কি? শীয়ারা কেন মুশরিক/ কাফের? বিস্তারিত আলোচনা
ইরান ও অন্যান্য দেশের শিয়ারা যে ধরণের আকিদা পোষণ করেন, সেদিক থেকে তারা অনেকটাই ইসলাম থেকে বের হয়ে যান। তাদেরকে আমরা মুসলিম বলতে পারি না।
শিয়ারা আহলে কিবলা বা মুসলমানদের কিবলাকে কিবলা মানা সত্বেও আমরা তাদেরকে মুসলিম ভাই বোন বলতে পারি না।
যখন তারা কোরআন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে, তখন তাদেরকে আমরা কোনোভাবেই মুমিন বলতে পারি না। শিয়াদের এমন অনেক ত্রুটিপূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।
তবে শিয়াদের মধ্যে জায়েদিয়া এবং আরো দুই একটি শিথিল ধরনের শিয়া রয়েছে, যাদের মাঝে মূল সমস্যার জায়গা হলো খিলাফত নিয়ে। আবু বকর সিদ্দিক (রা:) খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিন্তু তারা মনে করে যোগ্য ছিলেন আলী (রা:)। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সাহাবিদের প্রতি তাদের বিরাগ আছে। এদেরকে আমরা মুসলিম বলতে পারি। মৌলিকভাবে তাদেরকে কাফির বলার কোনো কারণ নেই। তবে এরাও প্রচন্ড রকম গোমড়াহ ও বিভ্রান্ত।
ব্যাখ্যা: আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ব্যাপারে জাহিলদের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা যায়। তাদের কতিপয় আল্লাহর সকল আয়াতকে মিথ্যা মনে করে এবং আল্লাহর কোন কিতাব বিশ্বাস করে না। যেমনভাবে মুশরিকরা নাবী-রসূলগণকে বিশ্বাস করে না। আর চুড়ান্ত কথা হলো আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কোন কিতাবই তারা বিশ্বাস করে না।
আর জাহিলদের কতিপয় কিছু আয়াতকে বিশ্বাস করে এবং কতেককে অস্বীকার করে। যেমন ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান। যারা কতিপয় আয়াত বিশ্বাস করে এবং কতিপয়কে বিশ্বাস করে না, তারা মূলতঃ তাদের মতই যারা সকল আয়াতকেই অস্বীকার করে। মহান আল্লাহ বলেন,
(أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ) [البقرة: 85]
তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখ আর কিছু অংশ অস্বীকার কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তা করে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ব্যতীত তাদের কী প্রতিদান হতে পারে? (সূরা বাক্বারাহ ২:৮৫)।
কেবল তাদের কুপ্রবৃত্তি অনুসারেই তারা বিশ্বাস করে। তাদের কু-প্রবৃত্তি বিরোধী যা মনে করে সেটাকেই তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। কিতাবের আংশিক অস্বীকার করার কারণে অবশিষ্ট আংশিক বিশ্বাস জাহিলদের কোন কাজে আসবে না। যদিও কুরআনের একটি আয়াত বা কথা হয়ে থাকে তা জাহিলদের কোন উপকারে আসবে না। জাহিলদের মধ্যে আশা‘ইরা (أشاعرة) বলে, কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয়ই সৃষ্ট অথবা কুরআনের অর্থ ব্যতীত শুধু শব্দাবলী সৃষ্ট। এটা কুরআনের প্রতি মিথ্যারোপ করা বুঝায়। আর জাহমিয়্যাহ (الجهمية) সম্প্রদায়ও বলে, কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয়ই সৃষ্ট অথবা শুধু শব্দ সৃষ্ট ও অর্থ আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত, এটাও কুফরী।
শুধু শব্দ অথবা অর্থের অনুসরণ অথবা অপব্যাখ্যা করলে বিপথগামী হবে। কেননা শব্দ ও অর্থের সমন্বয়ে কুরআন আল্লাহর কালাম। কুরআনের অক্ষর ও সমুদয় অর্থ মিলেই মহান আল্লাহর বাণী হিসাবে গণ্য। অর্থ ছাড়া অক্ষর আল্লাহর কালাম নয়, তেমনই অক্ষর ছাড়া অর্থও আল্লাহর কালাম নয়।
রসূলগণের উপর কিতাব নাযিল হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা
জাহিলদের কথা: আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ) [الأنعام: 91]
আল্লাহ কোন মানুষের উপর কিছুই নাযিল করেননি (সূরা আন‘আম ৬:৯১)।
—————-
ব্যাখ্যা: ইয়াহুদীরা বলে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ) [الأنعام: 91]
আল্লাহ কোন মানুষের উপর কিছুই নাযিল করেননি (সূরা আন‘আম ৬:৯১)।
এর অর্থ হলো নাবী-রসূলগণের রিসালাত-বার্তা ও অহীকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করা। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি হিংসা করার কথা বলে জাহিলরা যে প্ররোচনা দেয়, সে ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন,
(قُلْ مَنْ أَنْزَلَ الْكِتَابَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى نُوراً وَهُدىً لِلنَّاسِ) [الأنعام: 91]
বল, কে নাযিল করেছে সে কিতাব, যা মূসা নিয়ে এসেছে মানবজাতির জন্য আলো ও পথনির্দেশস্বরূপ? (সূরা আন‘আম ৬:৯১)।
এটা হলো ইয়াহুদীদের বিরোধিতা। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে অভিশাপ দেন। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিংসা করতে তারা উদ্বুদ্ধ হয়। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও কুরআনের কারণে সকল রসূল, কিতাবসমূহকে তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আমরা আল্লাহ তা‘আলার নিকট এ থেকে আশ্রয় চাই। ভেবে দেখা দরকার যে, হিংসুকরা কি করেছিল? জাহমিয়্যাদের কথা হলো কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়নি। আবার কেউ বলে, সুন্নাহ অহী নয় বরং তা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা।
সক্ষেপে বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখতে পারেন
এখন দেখি মুসলিম কে
মুসলিম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মহান আল্লাহ তা‘আলাকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস করেন, ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে আল্লাহর শেষ রাসূল বলে মেনে নেন এবং নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে ইসলামের বিধান (কুরআন ও সুন্নাহ) অনুসরণ করেন
এবিষয়ে কারও মতভেদ নেই আর দেখুন শীয়ারা কতটা অবিশ্বাসী তারা কুরআন ও আল্লাহর রাসুল এর বিষয়ে কতটা খারাপ ধারনা রাখে, এরপরও কিছু জাহেল তাদের না বুঝে মুসলিম বলবে
শীয়াদের প্রধানত অপরাধ গুলো হল
- সাহাবীদের সমালোচনা: হযরত আবু বকর (রা.), ওমর (রা.) ও ওসমান (রা.) সহ অধিকাংশ সাহাবীর সমালোচনা করা এবং শিয়া বিশ্বাসমতে তাদের “কাফের” বা ইসলামচ্যুত মনে করা।
- ইমামত বিশ্বাস: শিয়া বিশ্বাস মতে, ইমামগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত এবং মাসুম (নিষ্পাপ), যা নবীগণের মর্যাদার কাছাকাছি বলে মনে করা হয়।
- আলী (রা.)-এর বিশেষ মর্যাদা: হযরত আলী (রা.) কে নবী মুহাম্মাদ (সা.) এর একমাত্র ন্যায্য স্থলাভিষিক্ত বা খলিফা হিসেবে বিশ্বাস করা এবং অন্যান্য খলিফাদের অবৈধ মনে করা।
- মুতা বিবাহ: সুন্নিদের মতে নিষিদ্ধ, কিন্তু শিয়াদের মধ্যে মুতা বিবাহ বা সাময়িক বিবাহ বৈধ বলে মানা হয়।
- বিদআত ও নতুন আচার: ইসলামের মূল ধারায় নেই এমন কিছু অনুষ্ঠান, যেমন: আশুরার সময় তাজিয়া মিছিল ও নিজেদের শারীরিক কষ্ট দিয়ে শোক প্রকাশ (মাতম) করা।
- পবিত্র কোরআনের বিকৃতি দাবি: কিছু চরমপন্থী শিয়া মতে, বর্তমান পবিত্র কোরআন পূর্ণাঙ্গ নয় বলে অপবাদ দেওয়া।
✅ শিয়াদের অপকর্ম তো স্পষ্ট। কিন্তু তাদের ১০০% কাফের ফতোয়া দেওয়ার কারনগুলো কী কী ?
✅ ১. শিয়া সম্প্রদায়ের একটি অন্যতম ও মূল আক্বিদা এই যে, আল্লাহ তায়ালা জিবরাঈল (আ.) কে ওহি দিয়ে আলি (রা.) এর নিকট পাঠিয়ে ছিলেন। কিন্তু তিনি ভুল করে মুহাম্মদ (স.) এর নিকট তা অবতীর্ণ করেছেন। (আল মুনিয়াহ ওয়াল আমাল ফি শারহিল মিলাল ওয়াননিহাল,পৃ. ৩০)।
✅ ২. শিয়াদের শায়খ ও কর্তাব্যক্তিরা এই বিশ্বাস রাখে যে, কোরআনে অনেক ত্রুটি রয়েছে। মূলত সঠিক কোরআন যখন ছাহাবাদেও মাঝে ইরতিদাদ দেখা দিয়েছে (তাদের মতে) তখন তা আসামানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। (আত তানবীহ ওয়ার রাদ্দ পৃ.২৫)।
✅ ৩. তাদের ধারণা যে, তাদের ইমামরাই আল্লাহ তায়ালা ও মানুষের মাঝে মধ্যস্থতাকরী। যেকোন সমস্যার সমাধানে তারা এগিয়ে আসতে পারবে। (বিহারুল আনওয়ার: খ.২৩ পৃ.৯৯)।
✅ ৪. শিয়াদের শায়খদের অভিমত হচ্ছে যে, ইমামদের কবরের দিকে হজ করা কাবায় হজ করার থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ছাওয়াবের কাজ। (ছাওয়াবুল আমাল ওয়া ইকাবুল আমাল: পৃ.১২১-১২২)।
✅ ৫. শিয়াদের একটি আক্বিদা হচ্ছে, যে ব্যক্তি হুসাইন (রা.) এর কবর যেয়ারত করলো সে যেন আরশে আল্লাহ তায়ালার যেয়ারত করলো। (আলমাযার আল মুফীদ: পৃ.৫১)।
✅ ৬. তাদের মতে হুসাইন (রা.) এর কবরের মাটি সকল রোগের জন্য শিফা বা আরোগ্যের মাধ্যম। (আমালী: ৩১৮)।
✅ ৭. আল্লাহ তায়ালা এবং তাদের ইমামদের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। (মাছাবীহুল আনওয়ার ফি হাল্লি মুশকিলাতিল আখবার: খ.২ পৃ.৩৯৭)।
✅ ৮. শিয়াদের শায়খ কুলাইনী তার কিতাবে উল্লেখ করেছে যে, ভাগ্য খারাপ ও ভাল হওয়া এবং জান্নাত জাহান্নামে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু তারকা ও নক্ষত্রের প্রভাব রয়েছে। (আর রওজা মিনাল কাফী খ.৮ পৃ.২১০৩)।
✅ ৯. শিয়াদের ধারণা, আলি (রা.) অদৃশ্যের খবর জানেন। তারা বলে, তিনি বলেছেন, ‘আমি জমিনের প্রতিপালক। আমার মাধ্যমেই জমীন স্থীর রয়েছে। দেখুন: মিরআতুল আনওয়ার: ৫৯)। তারা এটিও বিশ্বাস করে যে, তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করতে পারেন। দেখুন: উসুলুল কাফি: খ.১ পৃ.৩০৮)।
✅ ১০. শিয়া শায়খদের অভিমত, আলি (রা.) মৃত ব্যক্তিকে জিবিত করতে সক্ষম। (উসূলুল কাফি: খ.১ পৃ.৩৪৭)।
✅ ১১. আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন সময়ে প্রথম আসমানে নেমে আসেন, এটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের একটি মূল আক্বিদা। অথচ শিয়ারা এটি বিশ্বাস করেনা। বরং তাদের মতে যারা এই বিশ্বাস করে তারা সকলেই কাফের। (উসূলুল কাফী- খ.১ পৃ.৯০-৯১)।
✅ ১২. শিয়াদের একটি উপদল ইমামিয়্যাহ, তারা তাদের ইমামদেরকে আল্লাহ তায়ালার গুণে গুণান্নিত মনে করে। এমনকি তারা তাদেরকে আল্লহর নামেও ডাকে। (উসূলুল কাফী-খ.১ পৃ.৩১০)।
✅ ১৩. শিয়াদের দাবি যে কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ এর সাথে এটিও বলতে হবে যে ‘ওয়া আলিউন ওয়ালিউল্লাহ’ অর্থাৎ আলি আল্লাহ তায়ালার ওয়ালি। আজানে তারা এই বাক্যটি ব্যবহার করে এমনকি মৃত ব্যক্তিকে এই কালিমা বলে তালকীন করে। (ফুরুউল কাফী-খ.৩ পৃ.৮২)।
✅ ১৪. শিয়াদের শায়খদের অভিমত হচ্ছে যে ব্যক্তি আবুবকর, ওমর, উছমান, মুআবিয়া , আয়েশা এবং হাফসা রাদিআল্লাহু আনহুমদের প্রতি ফরজ নামাজের পর অভিসাপ দিবে, তারা আল্লাহ তায়ালার অতি নৈকট্যশিল বান্দা হতে পারবে। (ফরুউল কাফী: খ.৩ পৃ. ২২৪)।
✅ ১৫. শিয়াদের শায়খদের ধারনা এবং দাবি যে, তারা সাধারণ শিয়াদের জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে। (রিজালুল কাশি: খ.৫ পৃ.৪৯০-৪৯১)।
✅ ১৬. মুতা বিবাহ (সাময়ীক সময়ের জন্য চুক্তিভিত্তিক বিবাহ) যা ইসলামে নিষিদ্ধ বা হারাম সেই নিষিদ্ধ বিষয়টিকে তারা হালাল ঘোষণা করে। তারা বলে একজন ব্যক্তি পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবেনা যতক্ষননা সে অবিভাবক ও সাক্ষি ব্যতিত মুতা বিবাহ করে। এমনকি তারা বলে, একজন মুমিন নারীর সাথে মুতা করা সত্তরবার কাবা যিয়ারতের থেকেও উত্তম। (মিসবাহুত তাহাজ্জুদ: পৃ.২৫২)।
✅ ১৭. ইমাম খোমেনী বলে, যেকোন ধরণের যৌন লালসা পুরণ করায় কোন গোনাহ নেই এমনকি তা যদি দুগ্ধজাত শিশুর সাথেও হয়। (তাহরীরুর ওয়াসিলাহ: খ.২ পৃ.২২১)।
✅ ১৮. শিয়াদের একটি বিশ্বাস হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা ফেরেশÍাদেরকে তাদের ইমামদের নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর এই ফেরেশÍাদের দায়িত্ব হচ্ছে, তারা হুসাইন (রা.) এর কবরের পাশে কাঁদবে। এধরনের চার হাজার ফেরেশÍা কেয়ামত পর্যন্ত হুসাইন (রা.) এর কবরের পাশে কাঁদতে থাকবে। এছাড়া অন্যান্য সকল ফেরেশÍারা আল্লাহর নিকট অনুমতি চাইবে যেন তাদেরকে হুসাইন (রা.) এর কবর যেয়ারত করার সুযোগ দেয়া হয়। অতএব কিছু ফেরেশÍা যিয়ারত শেষে আকাশে উঠে যাবে আর অন্যরা অবতরণ করবে। (কানযু জামেউল ফাওয়ায়েদ: পৃ.৩৩৪)।
✅ ১৯. শিয়াদের শায়খ আলবা ইবনে দিরা মর্যাদার দিক থেকে আলি (রা.) কে রাসুল (স.) এর চেয়ে বেশী প্রধান্য দেয়। একথাও বলে যে মুহাম্মদকে আলি (রা.) ই পাঠিয়েছেন। তাদের ধারণা এটিও যে আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (স.) কে পাঠিয়েছেন যেন তিনি মানুষকে আলি (রা.) এর দিকে ডাকেন। কিন্তু তা না করে তিনি মানুষকে নিজের দিকে ডাকতে শুরু করেছেন। (বিহারুল আনওয়ার: খ.২৫ পৃ.৩০৫)।
✅ ২০. শিয়াদের শায়খরা বলে, তাদের ইমামরা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ওহী ব্যতীত কথা বলে না। এব্যাপারে সকলকে ঈমান রাখতে হবে। (বিহারুল আনওয়ারা: খ.১৭ পৃ,১৫৫)।
✅ ২১. খোমেনী তার ইসলামী হুকুমত কিতাবের মধ্যে লিখেছে যে, আমাদের ইমামদের এমন মর্যাদা রয়েছে যেখানে কোন নিকটস্থ ফেরেশÍা বা কোন প্রেরিত নবীও পৌঁছাতে পারবে না।
✅ ২২. শিয়াদের একটি আক্বিদা হচ্ছে, মৃত ব্যক্তিকে সর্বপ্রথম আলে বাইতের ভালবাসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। (বিহারুল আনওয়ার: খ.২৭ পৃ.৭৯)।
✅ ২৩. শিয়ারা এই ধারণা পোষণ করে যে, আবুবকর ও ওমর (রা.) কে প্রতি হজের মৌসমে জামারাতে রাখা হয় যেন পাথর নিক্ষেপের সময় তাদেরকেও পাথর নিক্ষেপ করা হয়।
✅ ২৪. মাজলিসি তার লিখিত হাক্কুল ইয়াকীন গ্রন্থে বলে যে, আবুবকর ও ওমর তারা দুজন কাফের। আর যারা তাদেরকে ভালবাসবে তারাও কাফের। (পৃ.৫২২)।
✅ ২৫. তাদের আক্বিদা যে, উসমান বিন আফফান (রা.) রাসুলের সময়ে প্রকাশ্যে ঈমানদার ছিলেন, তবে ভিতরে ভিতরে তিনি ছিলেন মুনাফিক। (আনওয়ারে নোমানী: খ.১ পৃ.৮১)। সাথে সাথে তারা এ বিশ্বাস করে যে, যে ব্যক্তি উসমান (রা.) এর ক্ষেত্রে মনের মধ্যে শত্রুতা না রাখবে এবং তাকে কাফের মনে না করবে সে আল্লাহ ও তার রাসুলের শত্রু। এবং সে কাফের। (নাফহাতুল উহুত ফী লানিল জিবতি ওয়াততাগুত, কায়েদা নং ৫৭)।
✅ ২৬. শিয়ারা আয়েশা (রা.) ও হাফসা (রা.) কে কাফের মনে করে। (তাফসীর কুম্মি পৃ.৫৯৭ সুরায়ে গাফের)। তাদের বিশ্বাস, জাহান্নামের সাতটি দরজাই আয়েশা (রা.) এর জন্য। এবং আয়েশা (রা.) ব্যভিচারিনী। (এটি একটি বিরাট অপবাদ)। তাদের প্রতিক্ষিত ইমাম মাহদি তাকে জিবিত করবেন এবং তার উপর হদ কায়েম করবেন বা তার বিচার করবেন। (ইলালুশ শারায়ে খ.২ পৃ.৫৬৫)।
✅ ২৭. শিয়াদের ইমাম ও ওয়ালিদের কবর বা মাজার যেয়ারত করা অন্যান্য ফরজের মত একটি ফরজ। যে ব্যক্তি এটি পরিত্যাগ করবে সে কাফের। (কামেলুয যিয়ারাত পৃ. ১৮৩)।
✅ ২৮. শিয়াদের প্রধান ও অন্যতম আক্বিদা হচ্ছে তাকিয়া। অর্থাৎ সত্য গোপন করা এবং নিজের অন্তরের বিশ্বাসটিক প্রকাশ না করা। অন্যভাবে বলা যায় তাকিয়া অর্থ ধোকবাজী ও মুনাফেকীর একটি সমন্বিত রূপ বা পদ্ধতি। এই তাকিয়া যে বিশ্বাস করবেনা তার ঈমান থাকবে না। অর্থাৎ যে ধোকাবাজী করবেনা সে শিয়া হতে পারবেনা। (উসূলুল কাফী: খ.২ পৃ.৫৭৩)। এই তাকিয়া বর্জন করা নামাজ বর্জন করার মত অপরাধ।
✅ ২৯. তাদের বিশ্বাস, কেয়ামতের পুনরুত্থানের পূর্বেই অনেক মানুষ মৃত্যুর পর আবার দুনিয়াতে সেই চেহারা ছুরত বা আকৃতি নিয়ে আবার আসবে। এটি একটি কুফুরি মতবাদ বা হিন্দুয়ানী মতবাদ। (আওয়াএলুল মাকালাত পৃ.৪৬)।
✅ ৩০. তারা মনে করে প্রতিক্ষিত মাহদি আসার পূর্ব পর্যন্ত তাদের উপর জুমার নামাজ ওয়াজিব নয়। তার যখন আবির্ভাব হবে তখন তিনি তাদের নিয়ে জুমা আদায় করবেন। (মিফতাহুল কারামাহ: খ.২ পৃ৬৯)।
✅ ৩১. শিয়ারা প্রতিক্ষিত মাহদি আসার পূর্ব পর্যন্ত জিহাদকে হারাম মনে করে। তাদের মতে এটি রক্ত, শুকরের গোশÍ ও মৃতের মত হারাম।
✅ ৩২. শিয়াদের বিশ্বাস, তাদের ইমাম প্রতিক্ষিত মাহদি (আ.) এসে আবুবকর ও ওমর (রা.) কে জিবিত করে শুলিতে চড়াবেন। এবং প্রতিদিন তাদেরকে হাজারবার হত্যা করবেন। (বাসায়েরুদ দারাজাত: পৃ.১৮৭-১৮৮)।
✅ ৩৩. তাদের বিশ্বাস, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের লোকেরা জাহান্নমী। তারা অপবিত্র, কাফের, তাই তাদে জানাযা নামাজ পড়া জায়েয হবে না। তাদের কোরবানী হালাল হবে না। এবং তারা সকলেই জারজ সন্তান। তাদেরকে হত্যা করা, তাদের সম্পদ চুরি করা, তাদের সাথে মতবিরোধ করা বৈধ। এমনকি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের লোকদের অভিসাপ দেয়া উত্তম ইবাদত। (বিহারুল আনওয়ার: খ.৮ পৃ ৩৬৮-৩৭০)।
✅ ৩৪. শিয়ারা বলে, আলি (রা.) এর কবর যিয়ারত করলে প্রতিটি পদে পদে তার জন্য একটি কবুল হজ, একটি মাবরুর ওমরা এবং একশত শহীদের ছাওয়াব লেখা হবে। তার পূর্বের ও পরের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তার হিসাব সহজ করা হবে। ফেরেশÍারা তাকে স্বাগত জানাবে। (তাহজীবুল আহকাম: খ.৬ পৃ.১৩০৬)।
✅ ৩৫. শিয়াদের একটি বিশ্বাস যে কেয়ামতের দিন হিসাব আল্লাহ তায়ালার নিকট নয় বরং তাদের ইমামদের নিকট দিতে হবে। (উসূলুল আইম্মাহ: খ.১ পৃ.৪৪৬)।
সংক্ষিপ্তাকারে উপরোল্লেখিত আক্বিদাগুলোই তাদের কুফুরীর প্রমানের জন্য যথেষ্ট। এছাড়াও শিয়াদের আরও অনেক ভ্রান্ত ও কুফুরী মতবাদ রয়েছে।
সবশেষে বলবো, আমাদের সাধারন মুসলমানদেরকে এবং বিশেষভাবে ওলামায়েকেরামকে এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে। এই ভয়ানক ও ক্রমবিকাশমান ফিতনাকে অবহেলা করা যাবেনা। কেননা তারা তাদের কাজ ও মিশন নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মত ও চিন্তাধারা প্রচার করে যাচ্ছে বিভিন্ন উপায়ে। অতএব তাদের পরিকল্পনার বিপরীতে ছহীহ ও বিশুদ্ধ আক্বিদা প্রচারে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সকলকে এই ফিতনা থেকে সচেতন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে হকের সাথে থাকার তাওফীক দান করুন। সিরাতে মুস্তাকীমের উপর অটল অবিচল থাকার হিম্মত ও কুওওত দান করুন। আমীন।।
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মারকাযুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ বাংলাদেশ
এখন তাদের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ/ কিতাব থেকে কিছু দলিল পেশকরা হল
তাকিয়া [ধর্মীয় কারণে মিথ্যাচার]
শিয়ারা যেমন মুসলিমদের সামনে এ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে, তেমনি কিছু সরলপ্রাণ মুসলিম ভাই মনে করেন — “শিয়াদের যতই ভিন্ন মত থাকুক, ওরাও তো আমাদের মত একই কুরআনে বিশ্বাস করে!”
কিন্তু আসলেই কি তাই? আসলেই কি শিয়ারা দ্বীন ইসলামের কিতাব আল কুরআনে পূর্ণরূপে বিশ্বাস করে?
শিয়াদের ধর্মীয় বিধি-বিধানের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হচ্ছে – মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আল-কুলাইনীর ‘আল কাফী’ (الكافي)। এটি তাদের নিকট সব থেকে বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য “হাদিস” গ্রন্থ। এই গ্রন্থের ৩টি খণ্ডের ১ম অংশ উসুলুল কাফী (أصول الكافي) তে শিয়াদের আকিদা-বিশ্বাস সন্নিবেশিত আছে। তাদের আকিদার রেফারেন্স দিতে হলে এই কিতাব থেকেই দিতে হবে। এই আকিদা না মানলে সে মূলধারার শিয়াই না। এই গ্রন্থে باب أنه لم يجمع القرآن كله إلا الأئمة و أنهم يعلمون علمه كله অধ্যায় [ইমামগণই আল-কুরআনকে পরিপূর্ণ সংকলন করেন এবং তারাই তার পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখে] শিরোনামের অধীনে বর্ণনা করা হয়েছে:
“জাবের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবূ জাফর(আ) [জাফর সাদিক]-কে বলতে শুনেছি, মানুষের মধ্যে মিথ্যাবাদী ছাড়া কেউ দাবি করতে পারে না যে, আল্লাহ যেভাবে কুরআন নাযিল করেছেন, সে তা পরিপূর্ণভাবে সেভাবে সংকলন করেছে; বরং আলী ইবন আবি তালিব ও তার পরবর্তী ইমামগণই আল্লাহ যেভাবে তা নাযিল করেছেন, ঠিক সেভাবে সংকলন ও সংরক্ষণ করেছেন।”
কুলাইনী তার উসুলুল কাফী (أصول الكافي) নামক গ্রন্থের ৬৭ পৃষ্ঠায় (ভারতীয় ছাপা) আরও বর্ণনা করেন:
.
“আবূ আবদিল্লাহ[জাফর সাদিক] বললেন: “… যতক্ষণ না কায়েম বা মাহদীর উত্থান ঘটবে, যখন সে কায়েম বা মাহদীর উত্থান হবে, তখন আল্লাহর কিতাবকে তার সীমারেখায় রেখে পাঠ করা হবে; আর তিনি কুরআনের ঐ কপিটি বের করবেন, যা আলী(আ) লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
তিনি আরও বললেন, আলী(আ) যখন তা লিপিবদ্ধ করে অবসর হলেন, তখন তিনি জনগণের নিকট তা বর্ণনা করলেন এবং তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন: এটা আল্লাহ তা‘আলার কিতাব, যেমনিভাবে তা মুহাম্মাদ(ﷺ)এর প্রতি আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেছেন; আমি দু’টি ফলক থেকে তা সংকলন করেছি।
তখন লোকেরা বলল: আমাদের নিকটে তো কুরআন সংকলিত রয়েছে; এর কোন প্রয়োজন আমাদের নেই। অতঃপর আলী বললেন: জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ, আজকের এই দিনের পরে তোমরা তা আর কখনও দেখতে পাবে না; কারণ, যখন আমি তা সংকলন করি, তখন আমার উপর দায়িত্ব ছিল যে, আমি তা তোমাদেরকে জানাব, যাতে তা তোমরা পাঠ করতে পার।”
.
নাউযুবিল্লাহ, কুরআন বিকৃতির তত্ত্ব কেউ বিশ্বাস করলে তার ঈমান থাকার কথা নয়; আর তারা সেই কুফরী বিশ্বাসটিকে মহান সাহাবী আলী(রা) এর দিকেই সম্পর্কযুক্ত করল। -_-
.
শিয়ারা তাদের ‘কুরআনের’(!) তাফসিরগুলোতে মুসলিম উম্মাহর আল কুরআন নিয়ে কী মন্তব্য করে? চলুন দেখি।
.
শিয়া মুফাসসির মোল্লা হাসান তার তাফসিরের শুরুর অংশে উল্লেখ করেন:
“আবূ জাফর(আ) [জাফির সাদিক] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি আল্লাহর কিতাবের মধ্যে কম-বেশি করা না হত, তবে কোন বিবেকবানের কাছেই আমাদের হক (অধিকার) গোপন থাকত না।”
[মোল্লা হাসান, তাফসীরুস সাফী (تفسير الصافي), পৃ. ১১]
শিয়া আলেম নুরী আত-তাবারসী ‘ফসলুল খিতাব’ (فصل الخطاب)-এর মধ্যে বলেন:
“আমীরুল মুমিনীনের [অর্থাৎ আলী(রা)] একটি বিশেষ কুরআন ছিল, যা তিনি রাসূলুল্লাহ(ﷺ) ইন্তিকালের পর নিজেই সংকলন করেন এবং তা জনসমক্ষে পেশ করেন; কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে। অতঃপর তিনি তা তাদের দৃষ্টি থেকে গোপন করে রাখেন; আর তা ছিল তার সন্তান তথা বংশধরের নিকট সংরক্ষিত, ইমামত তথা নেতৃত্বের সকল বৈশিষ্ট্য ও নবুয়তের ভাণ্ডারের মত যার উত্তরাধিকারী হয় এক ইমাম থেকে অপর ইমাম। আর তা প্রমাণ (মাহদী) এর নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। -আল্লাহ আল্লাহ দ্রুত তাকে মুক্ত করে দিন- ; তিনি তখন তা জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন এবং তাদেরকে তা পাঠ করার নির্দেশ দিবেন; আর তা সংকলন, সূরা ও আয়াতসমূহের ধারাবাহিকতার দিক থেকে বিদ্যমান এই কুরআনের বিপরীত; এমনকি শব্দসমূহও কম-বেশি করার দৃষ্টিকোণ থেকে তার বিপরীত। আর যেখানে সত্য আলী’র সাথে; আর আলী সত্যের সাথে, সেখানে বিদ্যমান কুরআনের মধ্যে উভয়দিক থেকেই পরিবর্তন রয়েছে; আর এটাই উদ্দেশ্য।”
[ফসলুল খিতাব (فصل الخطاب), পৃ. ৯৭]
.
হ্যাঁ, সে (নূরী তাবরসী) এ রকম ভাষ্য ও শব্দে এ জঘন্য কথাটি বলেছে, নাউযুবিল্লাহ। আল্লাহ এদের উপর অভিশাপ বর্ষণ করুন।
হোসাইন আন-নুরী আত-তাবারসী ‘ফসলুল খিতাব’ (فصل الخطاب) নামক গ্রন্থের মধ্যে আরো বলেন:
“অনেক প্রবীণ রাফেযীর নিকট থেকে বর্ণিত আছে যে, আমাদের নিকট যে কুরআন বিদ্যমান আছে, তা ঐ কুরআন নয়, যা আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মদ(ﷺ) এর উপর নাযিল করেছেন; বরং তা রদবদল করা হয়েছে এবং করা হয়েছে তাতে কম-বেশি।”
[ফসলুল খিতাব (فصل الخطاب), (ইরানি সংস্করণ) পৃ. ৩২]
শিয়া মুফাসসির মোল্লা হাসান বর্ণনা করেন:
“আবূ জাফর থেকে বর্ণিত, আল-কুরআন থেকে অনেক আয়াত বাদ দেয়া হয়েছে; আর কতগুলো শব্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।”
[মোল্লা হাসান, তাফসীরুস সাফী (تفسير الصافي), পৃ. ১১]
মোল্লা হাসান আরও বলেন:
“আহলে বাইত তথা নবী পরিবারের সুত্রে বর্ণিত এসব কাহিনী ও অন্যান্য বর্ণনাসমূহ থেকে বুঝা যায় যে, আমাদের মধ্যে প্রচলিত কুরআন [[ অর্থাৎ যেই কুরআন মুসলিম উম্মাহ পাঠ করে ]] মুহাম্মাদ(ﷺ) এর উপর অবতীর্ণ কুরআনের মত পরিপূর্ণ নয়; বরং তার মাঝে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তার পরিপন্থী আয়াত যেমন রয়েছে; আবার তেমনি পরিবর্তিত ও বিকৃত আয়াতও রয়েছে। আর তার থেকে অনেক কিছু বিলুপ্ত করা হয়েছে; তন্মধ্যে অনেক জায়গায় আলী’র নাম বিলুপ্ত করা হয়েছে; আবার একাধিক বার “آل محمد” (মুহাম্মদের বংশধর) শব্দটি বিলুপ্ত করা হয়েছে; আরও বিলুপ্ত করা হয়েছে মুনাফিকদের নামসমূহ এবং ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এটা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পছন্দসই ক্রমধারা অনুযায়ী সাজানোও নয়।”
[মোল্লা হাসান, তাফসীরুস সাফী (تفسير الصافي), পৃ. ১৩]
আর কুলাইনী বর্ণনা করেন:
“আবূ আবদিল্লাহ(আ) {জাফর সাদিক} থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয় জিবরাঈল আ. যে কুরআন মুহাম্মাদ(ﷺ) এর নিকট নিয়ে এসেছে, তাতে আয়াত সংখ্যা সতের হাজার।”
[উসুলুল কাফী (أصول الكافي), (ভারতীয় সংস্করণ) পৃ. ৬৭১]
শিয়াদের কাল্পনিক “কুরআনে”(??!!) আয়াত ১৭,০০০; অথচ আল্লাহ তা’আলা যেই কুরআন নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) এর উপর নাজিল করেছেন, তার আয়াতসংখ্যা ৬২৩৬।
এরপরেও কেউ কিভাবে দাবি করতে পারে যে শিয়া ধর্মের লোকেরা মুসলিমদের আল কুরআনে বিশ্বাস করে? যারা আল কুরআনেই ঠিকমত বিশ্বাস স্থাপন করে না তারা আবার কেমন মুসলিম?
সম্মানিত কিতাব আল কুরআনের ব্যাপারে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা বলেন:
“আলিফ-লাম-মীম, এটা সেই কিতাব; এতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তকীদের জন্য তা পথ প্রদর্শক”
(সূরা আল-বাকারাহ: ১-২)
তিনি আরও বলেন:
“আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি তার সংরক্ষক”।
(সূরা আল-হিজর: ৯)
তিনি আরও বলেন:
“তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ব করার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা তার সাথে সঞ্চালন করো না। এটা সংরক্ষণ ও পাঠ করাবার দায়িত্ব আমারই। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কর; অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই।”
(সূরা আল-কিয়ামাহ: ১৬-১৯)
তিনি আরও বলেন:
“আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, তাতে তোমাদের কোন সন্দেহ থাকলে তোমরা তার অনুরূপ কোন সূরা নিয়ে আস।”
(সূরা আল-বাকারাহ: ২৩)
আমরা দেখলাম যে শিয়ারা আলী(রা) এর নামে কিছু মিথ্যা ঘটনা তৈরি করেছে এবং আলী(রা) এর বংশধরদের অর্থাৎ তাদের ইমামদের উপর এক “কাল্পনিক কুরআন” এর মতবাদ সৃষ্টি করে তাতে বিশ্বাস করেছে। মুসলিম উম্মাহ যে কুরআন পড়ে, তাকে তারা বিকৃত মনে করে। তাদের নিজ গ্রন্থগুলোতে সুস্পষ্টভাবে এসব জিনিস লেখা আছে। অথচ আল্লাহ তা’আলা নিজেই আল কুরআনে এর সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন। মুসলিম আলেমগণ যুগে যুগে এই কথার সত্যতা প্রমাণ করে গিয়েছেন। যেখানে কুরআনের একটি আয়াত অবিশ্বাস করা কারো ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবার জন্য যথেষ্ট সেখানে পুরো আল কুরআনকে বিকৃত বলে বিশ্বাস করে যারা, তারা কিভাবে মুসলিম বলে গণ্য হতে পারে? আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের সকলেই বিশ্বাস করেন যে, ‘আল-কুরআন বিকৃত’-এই কথায় বিশ্বাসীরা কাফির, মুসলিম মিল্লাত (জাতি) থেকে বহিষ্কৃত। শিয়া আলেমদের এই বানোয়াট অভিযোগুলো লুফে নিয়ে আজ খ্রিষ্টান মিশনারী ও নাস্তিক-মুক্তমনারা আল কুরআন ও ইসলামের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপপ্রচার চালাচ্ছে।
আর জানতে ভিজিট করুন = Bangla blog

